Published : 08 Apr 2026, 09:08 PM
দেশের জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য জরুরি বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা সংকট দেখা দিলেও, আমাদের দেশে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে। বদিউল আলম মজুমদার সরকারের উপর জুলাই মাসের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করার অভিযোগ তোলেন। গণভোট ও জাতীয় সনদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধানে নেই’ অজুহাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে রাখা হচ্ছে। জনগণের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবায়ন করা উচিত।’ অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার সময়ও সংবিধানে এর স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না, কিন্তু রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়েছিল। ‘অধ্যাদেশ বাতিল ও গণভোটের অস্বীকার: সংসদীয় স্বৈরাচারিতার যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আলোচনার আয়োজন করে। বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলছে, তাই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভেদ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সংখ্যালঘুদের ভিন্নমত এক্ষেত্রে তেমন একটা প্রাধান্য পায় না। গণভোটের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অথবা জনকল্যাণমূলক অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা করলে চলমান সংকট আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংকট মোকাবেলা করতে হবে।
’ জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতে তরুণদের নেতৃত্বে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঐক্য প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, দেশ কি আবারও সেই পুরোনো পথে হাঁটছে? সরকারকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ও তরুণ সমাজ অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, উন্নয়নকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, মনিরা শারমিন, সালেহউদ্দিন সিফাত, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান।।
এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল: হাইকোর্টের প্রশ্ন, কেন অবৈধ নয়?